1. prodip.1100@gmail.com : admin :
  2. stardorpon2011@gmail.com : Raju :

আমাদের দেশে দুই ধরনের মানুষ আছে।

  • Update Time : রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন নিউজ ডেক্সঃ

আমাদের দেশে দুই ধরনের মানুষ আছে। এক ধরনের মানুষ ধূমপান করে আর আরেক ধরনের মানুষ ধূমপান করে না। কিন্তু তফাত হলো- যিনি ধূমপান করেন, তিনি নিজের তো ক্ষতি করছেনই; উল্টো যারা ধূমপান করেন না, তাদেরও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার করছেন। অথচ যিনি ধূমপান করছেন না, তিনি নিজেসহ কারোর জন্যই ক্ষতির কারণ নন। তা হলে বিষয়টি দাঁড়াল যে, ধূমপানের ভয়াল থাবা থেকে ধূমপান না করেও যে কেউ ক্ষতির শিকার হতে পারেন। এই ক্ষতি তার যে কেবল স্বাস্থ্যগত ক্ষতিরই কারণ, সেটিও শুধু নয়। স্বাস্থ্যগত ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক, মানসিক ও পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টিও এতে জড়িত রয়েছে।

গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের (গ্যাটস) এক রিপোর্ট থেকে দেখা গেছে, বাংলাদেশ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি তামাক ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে ৩৫ দাশমিক ৩ শতাংশ (৩ কোটি ৭৮ লাখ) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব) তামাক ব্যবহার করে এবং কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।

‘কমপ্রিহেন্সিভ ইকোনমিক এসেসমেন্ট অব দ্য হেলথ এফেক্ট অব টোব্যাকো ইউজ অ্যান্ড ইপ্লিকেশনস ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০১৮ সালে তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এ ছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির (চিকিৎসা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানো) পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে (২০১৭-১৮) তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ মাত্র ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিক হেলথ (২০২০) বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, পরিবেশ ও কৃষকের জীবন-জীবিকার ওপর তামাক চাষের বিরূপ প্রভাব ব্যাপক। তা হলে দেখা যাচ্ছে, তামাকের ভয়াবহ রূপ থেকে কমবেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এখন এই ক্ষতি থেকে পরিত্রাণের উপায় তো একটিই। সেটি হলো, দেশকে ধীরে ধীরে তামাকমুক্ত করতে হবে। বিষয়টি হুট করে করাও সহজ নয়, বরং ধাপে ধাপে করতে হবে।

এ বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়া স্পিকার্স সম্মেলনে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাক ব্যবহার নির্মূল করার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণাটি এতটাই যুগোপযোগী ও প্রাসঙ্গিক ছিল যে, তামাকবিরোধী সব সংস্থাসহ সর্বক্ষেত্রে তা প্রশংসিত হয়। পৃথিবীর ইতিহাসেও বিষয়টি রীতিমতো নজির স্থাপন করে। কারণ এর আগে কোনো দেশের কোনো সরকারপ্রধান তামাক নির্মূলে এমন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে তামাক নিষিদ্ধের কথা বলেননি।

তামাক নিষিদ্ধের প্রথম উপায় হিসেবে জনসাধারণের মধ্যে এর ব্যবহার হ্রাস করতে হবে। এ জন্য তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য যাতে তাদের কাছে সহজলভ্য আর না থাকে, এ ব্যাপারে জোর দিতে হবে। তামাকের ওপর কর আরোপ করে সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যগুলোর মূল্যবৃদ্ধি করা একটি কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ আমরা জানি, অর্থনীতির ভাষায়- দাম যত বাড়ে, চাহিদা তত কমে। তাই উচ্চমূল্য দিয়ে কিনে সাধারণ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য, বিশেষ করে সিগারেটের ব্যবহার কমিয়ে দেবে। পৃথিবীর অন্য আরও দেশেও এ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে তারা ভালো ফল পেয়েছেন। তা হলে আমাদেরও তো ওই পথেই হাঁটা উচিত।

সামনেই আসছে সংসদের বাজেট অধিবেশন। প্রতিবছর বাজেট অধিবেশনে সারাদেশের মানুষ জাতীয় সংসদের দিকে তাকিয়ে থাকে তাদের সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির বাজেট শোনার জন্য। আমি মনে করি, এ বাজেট কেবল সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষার কথাই বলবে না- বরং তাদের স্বাস্থ্যগত, মানসিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের কথাও বলবে। এ ক্ষেত্রে তামাকজাত দ্রব্য যেহেতু মানুষের স্বাস্থ্যগত, মানসিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা- সেহেতু তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর আরোপ করে তামাকজাত দ্রব্য, বিশেষত সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। ফলে সবচেয়ে উপকৃত হবে আগামী দিনে দেশের হাল ধরবে যারা- সেই তরুণ প্রজন্ম। তাই তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি জরুরি।

মো:-Mujibul Haque : জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 PollySoktyBarta.com
Site Customized By NewsTech.Com